
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আশা তৈরি হলেও মাত্র একদিনের ব্যবধানে নতুন করে রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে একজন দন্তচিকিৎসক এবং তার দুই সন্তানও রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
মঙ্গলবার সংঘটিত এই হামলার পর লেবাননে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে লেবানিজ বিশ্ববিদ্যালয় আগামী সপ্তাহের নির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং জনমনে উদ্বেগ বৃদ্ধির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে, ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষ হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে তার আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং একটি সমঝোতার ভিত্তিতে সহিংসতা বন্ধ হওয়ার কথা ছিল।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরও বাস্তব পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত ইসরায়েল কিংবা হিজবুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয় নিশ্চিত করেনি। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণার কার্যকারিতা ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংঘাতের উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন সোমবার ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরে বড় ধরনের হামলার হুমকি দেয়। এতে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ত্যাগ করতে শুরু করেন। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট হামলা চালায়।
এদিকে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চতুর্থ দফার আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই আলোচনায় ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ সরাসরি অংশগ্রহণ করছে না। ফলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও মাঠের পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।