
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বিশ্বব্যাপী শান্তি, উন্নয়ন ও সহযোগিতা জোরদারে একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের সমর্থনের ফলেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে তিনি গভীর বিনয় ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে গ্রহণ করছেন বলে জানান। একই সঙ্গে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া প্রচারণা কার্যক্রমে সহায়তাকারী দল, বিভিন্ন দেশের জনগণ এবং শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
বক্তব্যে ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ এমন এক সময়ে তার নবম দশকে প্রবেশ করছে, যখন বিশ্বজুড়ে সংঘাত, মানবিক সংকট, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির মতো নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এর পাশাপাশি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং আর্থিক সংকট জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি ছয়টি কর্মস্তম্ভভিত্তিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
শান্তি ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশের সদস্যরা যে ভূমিকা রেখেছেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বিদ্যমান ঘাটতি দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো অর্জনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। অর্থায়ন সংকট মোকাবিলা, ঋণের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।