
চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলে আজিম গ্রুপের একাধিক কারখানাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন, ওভারটাইম ভাতা এবং ঈদ বোনাস পরিশোধে বিলম্বের অভিযোগ তুলে শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে স্থানীয় সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ চলাচল ব্যাহত হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, তারা অন্তত দেড় মাসের নিয়মিত বেতন এখনও পাননি। পাশাপাশি কয়েক মাসের ওভারটাইম ভাতাও বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করা হয়। অনেক শ্রমিক জানান, গত কয়েক বছর ধরেই নির্দিষ্ট সময়ে বেতন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা চলছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঈদ উৎসব সামনে থাকলেও বোনাস না পাওয়ায় অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়।
২ মে সকাল থেকে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ও সিঅ্যান্ডবি মোড় এলাকায় শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে একত্রিত হন। এরপর তারা প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে করে আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ সড়ক অবরোধের কারণে অনেক যানবাহন বিকল্প পথে চলাচল করতে বাধ্য হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়। একই সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শ্রমিকদের একটি অংশ অবরোধ প্রত্যাহারে সম্মত হলেও পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা যায়। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা সমাধানের বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। শ্রমিকরা দাবি করছেন, শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।
শ্রমিক নেতাদের মতে, এই সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন খাতে চাপের কারণে সময়মতো বেতন প্রদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। তবে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা ও পরিবারের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়মিত বেতন পরিশোধ না হওয়া বড় সংকট তৈরি করছে।
অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়ক অবরোধের কারণে পুরো শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ও পরিবহন কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের আজিম গ্রুপের এই পরিস্থিতি শুধু একটি কারখানার অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং বৃহত্তর শিল্প সম্পর্ক ও শ্রমিক অধিকার ইস্যুকে সামনে এনেছে। বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত এই অচলাবস্থা দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।