
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস ও বাণিজ্যিক ট্রাকচালনার অভিযোগে ৩০ ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। অভিযান শেষে তাদের শিগগিরই নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The Hindu-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন চেকমেট’ নামে একটি বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (U.S. Customs and Border Protection) এক বিবৃতিতে জানায়, গত ১১ থেকে ১৫ মে অ্যারিজোনার ইউমা সেক্টরে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ৫২ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৬ জন ছিলেন ভারী পণ্যবাহী ট্রাকচালক।
এর মধ্যে ৩০ জন ভারতীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মেক্সিকো, এল সালভাদর এবং রাশিয়ার নাগরিক।
তদন্তে আরও জানা গেছে, আটক অনেক ট্রাকচালকের কাছে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে ইস্যুকৃত বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল। তবে কিছু চালকের কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সই ছিল না।
কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের মধ্যে অনেকের কর্মসংস্থান অনুমোদনপত্র (work authorization) থাকলেও সেগুলোর মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ফলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অনুমতি হারিয়েছেন।
ফেডারেল আইন অনুযায়ী, এসব নথির বৈধতা শেষ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সবাইকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (deportation) প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত টহল বাহিনীর ইউমা সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডাস্টিন কডল বলেন, এই অভিযান মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ। তার ভাষায়, অবৈধভাবে অবস্থানকারী চালকদের কারণে সড়কে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত টহল বাহিনী প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটক করছে, যাতে সড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
এই অভিযানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কঠোর অবস্থানও ভূমিকা রাখছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে দেশটির পরিবহন বিভাগ সম্প্রতি একটি নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে অযোগ্য বিদেশিদের বাণিজ্যিক ট্রাক ও বাস চালানোর লাইসেন্স দেওয়া বন্ধে কঠোর নীতিমালা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বড় সড়ক দুর্ঘটনার পর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কয়েকজন ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার অভিযোগ ওঠার পর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। আটক ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ এখন আদালত ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।