
দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যিনি সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় দিনাজপুর শহরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে আয়োজিত ১৯তম বাণিজ্য মেলা ২০২৫-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। মেলাটি আয়োজন করে দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দুর্নীতি দমনে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বরং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি মনে করেন, সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ ছাড়া একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
তিনি মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি আয়োজকদেরও দায়িত্বশীলভাবে মেলা পরিচালনার আহ্বান জানান।
মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শুধু পুলিশের পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই সমস্যা সমাধান করা কঠিন।
মন্ত্রী আরও জানান, দিনাজপুর শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং এই উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর জন্মস্থান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি সন্তোষজনক নয় এবং তা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ মো. আবু বকর ছিদ্দীক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, যারা উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মাসব্যাপী এই বাণিজ্য মেলার সূচনা ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে জমকালো আতশবাজির প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শুধু সরকারি উদ্যোগই নয়, প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা। মন্ত্রীর এই আহ্বান দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।