
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় কাতার এয়ারওয়েজ ঘোষণা দিয়েছে, তারা আবারও ইরাক-এর বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১০ মে থেকে এই ফ্লাইটগুলো চালু হবে। প্রাথমিকভাবে ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি শহর—বাগদাদ, বাসরা এবং এরবিল—এই রুটগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাতার তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। তখন ইরান-কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সামরিক তৎপরতার কারণে পুরো অঞ্চলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
সে সময় যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সাময়িকভাবে বাতিল বা স্থগিত করা হয়।
পরবর্তীতে ৬ মার্চ থেকে আংশিকভাবে আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আকাশপথে স্বাভাবিকতা ফিরে আসা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। বিশেষ করে বাণিজ্য, পর্যটন এবং প্রবাসী যাত্রীদের চলাচলের জন্য এই ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরাকের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবাসী ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য এটি একটি স্বস্তির খবর।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল না হলেও, এই ধরনের পদক্ষেপগুলো আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে, কাতার এয়ারওয়েজ-এর এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক বিমান চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও রুট স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করছে।