
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর কার্যকারিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে উপজেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ এবং সংশোধিত ২০১৩ ও ২০২৪ সালের আইনের আলোকে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রাম আদালতের সুবিধা ও বিচারপ্রক্রিয়া পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়নাধীন কর্মসূচির সঙ্গে গ্রাম আদালত সচেতনতা কার্যক্রম যুক্ত করার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের ক্ষমতা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বেশি প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, অনেক মানুষ গ্রাম আদালতের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবগত না থাকায় সরাসরি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। এর ফলে আদালতে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।
তারিকুল ইসলাম বলেন, “সাধারণ মানুষ যেন গ্রাম আদালতের মাধ্যমে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পায়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবিউল হাসান ভূইয়া। সভা সঞ্চালনা করেন গ্রাম আদালত বিষয়ক উপজেলা সমন্বয়কারী ফেরদৌস আহমেদ।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাবেয়া সুলতানা ইভা, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আব্বাস আলী, কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন এবং মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আবু সাইদ।
এছাড়াও বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাব-এর সভাপতি মোল্লা মো. নাসির আহমেদ, সিনিয়র সহসভাপতি ফয়সল আহমেদ খান, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন-এর ম্যানেজার মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি সভায় অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এতে আদালতের ওপর চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ কম খরচে ও দ্রুত বিচার পাবে।
আলোচকরা আরও মত দেন, গ্রাম আদালতকে জনপ্রিয় করতে হলে ইউনিয়ন পরিষদ, প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, গ্রাম আদালতকে জনগণের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর করতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে সভার সমাপ্তি ঘটে।