
ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ভোলায় পৌঁছেছে বাংলাদেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের মরদেহ। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটের দিকে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে তার মরদেহবাহী হেলিকপ্টার অবতরণ করে।
মরদেহের সঙ্গে ছিলেন তার একমাত্র মেয়ে তাছলিমা আহমেদ জামান মুন্নি এবং মেয়ের জামাই ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন। হেলিকপ্টার অবতরণের সময় হেলিপ্যাড এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত হন। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় শোকের আবহ নেমে আসে।
হেলিকপ্টার থেকে মরদেহ নামানোর পর সেটিকে একটি লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে দুপুর ২টায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে তার জন্মস্থান দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে নেওয়া হবে।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তোফায়েল আহমেদকে তার বাবা আজহার আলী এবং মা ফাতেমা খানমের কবরের পাশেই সমাহিত করা হবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসানে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী নিজ গ্রামের মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এই বর্ষীয়ান নেতা।
তার মৃত্যুতে ভোলাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
এর আগে সোমবার (১ জুন) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। ওই দিন সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।
স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে শোক প্রকাশ করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নিজ জন্মভূমি ভোলায় ফিরে শেষ যাত্রা সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। দুপুরের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফনের মাধ্যমে শেষ হবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধ্যায়।