
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে হেরে সিরিজ জয় থেকে বঞ্চিত হলো বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে ৬ উইকেটে হেরে সিরিজ শেষ হয় ১-১ সমতায়। দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় সিরিজের ফলাফল ভাগাভাগি করেই শেষ করতে হয়েছে দুই দলকে।
সিরিজের শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই চাপে ছিল লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ১৫ ওভারে নামিয়ে আনা হলেও ব্যাটিংয়ে বড় কিছু করতে পারেনি স্বাগতিকরা। মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ইনিংস শুরুতেই ধাক্কা খায়। দ্রুত উইকেট হারিয়ে বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হয় ব্যাটাররা। ২৫ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। পরে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি টাইগাররা।
শরিফুল ইসলাম শুরুতে বল হাতে ভালো শুরু এনে দিলেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। শেখ মেহেদী একটি উইকেট নিলেও পরে নিউজিল্যান্ড ব্যাটারদের থামানো যায়নি।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন তাওহিদ হৃদয়। লিটন দাস ২৬ রান এবং সাইফ হাসান ১৬ রান করেন। বাকিরা কেউই দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি, যা ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট করে।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে জশ ক্লার্কসন ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস ভেঙে দেন।
১০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করে নিউজিল্যান্ড। বিশেষ করে বেভন জ্যাকবস ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। মাত্র ২০ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে কিউইরা।
জ্যাকবস ৬২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা। তার স্ট্রাইকরেট ছিল ২০০, যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুতই নিউজিল্যান্ডের দিকে নিয়ে যায়। অন্যদিকে ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতলেও সিরিজ নিজেদের করে নিতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে বাংলাদেশও শেষ ম্যাচে হারলেও প্রথম ম্যাচে জয়ের কারণে সিরিজ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে নিয়মিত উইকেট পতন এবং বড় জুটি গড়তে না পারা দলের জন্য বড় চিন্তার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে সিরিজ সমতায় শেষ হলেও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস দলকে হতাশায় ফেলেছে।