
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ ড. ফাওজুল কবির খান আবারও ফিরে গেলেন তার পুরোনো পেশা শিক্ষকতায়। এবার তিনি যোগ দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে।
মঙ্গলবার (২ জুন) তিনি নিজেই তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পোস্টে তিনি শিক্ষকতায় ফিরে আসার অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন।
ফেসবুক পোস্টে ফাওজুল কবির খান লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। পূর্বপুরুষের পেশায় আবার ফিরে এসেছি।” তিনি চট্টগ্রামের একটি প্রবাদ উল্লেখ করে বলেন, “হাইল্যার ফোয়া হাইল্যা হয়, জাইল্লার ফোয়া জাইল্লা”—অর্থাৎ পারিবারিক পেশার ধারাবাহিকতা। তিনি জানান, তার দাদা ছিলেন মাদরাসা শিক্ষক এবং বাবা ছিলেন কলেজ শিক্ষক। সেই ধারাবাহিকতায় তিনিও শিক্ষকতা পেশা বেছে নিয়েছেন।
এর আগে তিনি সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)-তে পাঠদান করতেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
বর্তমানে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কেন্দ্রের দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, তিনি শুধু ক্লাসরুমে পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং গবেষণা কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
তিনি বলেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর এনার্জি অ্যান্ড লজিস্টিকস’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেছেন। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতে গবেষণা ও নীতি সহায়তা নিয়ে কাজ করা হবে বলে জানা যায়।
ফেসবুক পোস্টে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। তার এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, বিশেষ করে যারা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে তার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
ফাওজুল কবির খান বাংলাদেশের একজন পরিচিত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি ও বেসরকারি দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তার শিক্ষকতায় ফেরাকে একাডেমিক অঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, প্রশাসনিক দায়িত্ব শেষে আবারও একাডেমিক জীবনে ফিরে এসে ফাওজুল কবির খানের এই পদক্ষেপ শিক্ষা ও গবেষণা খাতে নতুন গতিশীলতা আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।