
চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা মোট ৫৩ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দর-এর বহির্নোঙরে। শনিবার জাহাজগুলোর স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে দেশের বর্তমান দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ টন চাহিদা অনুযায়ী প্রায় চার দিনের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিপিং এজেন্টের তথ্য অনুযায়ী, চীন থেকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ লিলা কিংস্টন প্রায় ১৯ হাজার টন ডিজেল বহন করে শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়।
এরপর শনিবার ভোরে আরও একটি বড় চালান নিয়ে আসে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ প্রাইভেট সোলানা। এই জাহাজটি ৩৪ হাজার ৬০০ টন ডিজেল বহন করে কুতুবদিয়া এঙ্করেজ এলাকায় নোঙর করে।
প্রাইড শিপিং লাইন-এর ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ডলফিন জেটিতে দুটি জাহাজ অবস্থান করছে এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ রয়েছে আরও কয়েকটি জাহাজ। একটি জাহাজ থেকে ইতোমধ্যে লাইটারিং (ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তর) কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও জানান, নতুন দুটি জাহাজ যুক্ত হওয়ায় বন্দরে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা এখন সাতটিতে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে ২০টি জাহাজে করে মোট ৬ লাখ ৫ হাজার ২২৭ টন জ্বালানি আমদানি করা হয়েছিল। মে মাসেও জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসে প্রায় ১ লাখ টন ক্রুড অয়েলসহ মোট ৬ লাখ টন জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহন খাতের জন্য ডিজেল একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। তাই নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত আমদানির বিকল্প নেই।
নতুন এই চালান দেশের জ্বালানি মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির প্রয়োজনও বেড়ে যায়।
সব মিলিয়ে, চীন ও ভারত থেকে আসা এই নতুন ডিজেল চালান দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্বল্পমেয়াদে চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।