
প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য দেশের বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ড ও সেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রবাসী কার্ড চালু হলে বিএমইটি কার্ড আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২ জুন) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো একটি একক কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করা। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের কার্ড ও নথি থাকায় প্রবাসীরা জটিলতায় পড়ছেন। তাই একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে একক পরিচয়পত্রের মাধ্যমেই সব সুবিধা পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, নতুন প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিটেন্স আনা, ব্যাংকিং সুবিধা, ডিজিটাল পরিচয়, এবং অন্যান্য সরকারি সেবার ক্ষেত্রে আরও সহজভাবে সুবিধা নিতে পারবেন। কার্ডটির সঙ্গে একটি ট্র্যাকিং সিস্টেমও যুক্ত থাকবে, যা সেবাগুলোকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করবে।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা যে ফ্যাসিলিটিটা দেব, সেটা এখনো চূড়ান্ত করিনি। তবে প্রবাসীদের জন্য কীভাবে সহজ রেমিটেন্স ব্যবস্থা করা যায়, ব্যাংক পেমেন্ট গেটওয়ে কীভাবে আরও সহজ করা যায়—সেসব বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে এই কার্ড দেখালে প্রবাসীরা সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার পেতে পারেন।
এছাড়া স্বাস্থ্যসেবায়ও প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। হাসপাতালে গেলে তাদের জন্য আলাদা অগ্রাধিকার ভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে প্রবাসীদের জীবন সহজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা বিদেশে কাজ করেন এবং দেশে রেমিটেন্স পাঠান, তাদের জন্য একটি একক ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থা বড় ধরনের সুবিধা তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী কার্ড বাস্তবায়ন হলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং একাধিক কার্ড ব্যবহারের জটিলতা কমে আসবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের তথ্যভাণ্ডার আরও সুসংগঠিত হবে, যা নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।
সব মিলিয়ে, প্রবাসী কার্ড চালুর এই উদ্যোগ প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য একটি আধুনিক, সমন্বিত ও ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থার দিকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।