
ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিখ্যাত কানহা টাইগার রিজার্ভ-এ অল্প সময়ের ব্যবধানে একই পরিবারের পাঁচটি বাঘের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, একটি মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণই এই মৃত্যুর পেছনে দায়ী।
ঘটনার সূত্রপাত হয় এপ্রিলের শেষ দিকে। বাঘিনী ‘টি-১৪১’ এবং তার একটি শাবককে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাদের কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বুধবার সকালে বাঘিনীটি এবং একই দিনে বিকেলে তার শাবকটি মারা যায়।
এর আগে ২১ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে ওই বাঘিনীর আরও তিনটি শাবককে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে একই পরিবারের পাঁচটি বাঘের মৃত্যু ঘটে, যা বন বিভাগকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মৃত বাঘগুলোর শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে তাদের ফুসফুসে ক্ষত এবং নিউমোনিয়ার লক্ষণ পাওয়া গেছে। এসব উপসর্গ দেখে বন কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, বাঘগুলো ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাস-এ আক্রান্ত ছিল।
এই ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং সাধারণত গৃহপালিত কুকুর থেকে বন্য প্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাঘ, সিংহসহ অন্যান্য মাংসাশী প্রাণীর জন্য এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
ঘটনার পরপরই বন বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যে এলাকায় বাঘগুলোর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল, সেটি জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বনের ভেতরের পানির উৎসগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং আশেপাশের এলাকার গৃহপালিত পশুদের মধ্যেও কোনো সংক্রমণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃত বাঘগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে, যাতে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়। বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ২০১৮ সালে গির অরণ্য-এ একই ভাইরাসের সংক্রমণে ২৮টি সিংহ মারা গিয়েছিল, যা ভারতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য হলো—চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই মধ্যপ্রদেশে মোট ২৭টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। যদিও কর্মকর্তারা বলছেন, বাঘ সাধারণত একা থাকে এবং নিজেদের এলাকা আলাদা রাখে, ফলে সংক্রমণ দ্রুত পুরো বনে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে বন্যপ্রাণী ও গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে সংযোগ কমানো এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।