
রাজধানীতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উদ্যোগটি আয়োজন করে কমল জিয়া গবেষণা পরিষদ। শনিবার দিনব্যাপী এই কার্যক্রম শরীফবাগ ও মাদারটেক এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেল মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সকালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন। তারা দলবদ্ধভাবে এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন, সড়ক ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করেন এবং স্থানীয় জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পুরো কার্যক্রমে ছিল এক ধরনের সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা শুধুমাত্র সরকারের একার দায়িত্ব নয়; বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক সামাজিক আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ কর্মসূচির যাত্রা ঢাকা-৯ আসন থেকে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি কেবল একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।
সাধারণ সম্পাদক তাঁর বক্তব্যে বলেন, সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগকে আরও কার্যকর করা সম্ভব নয়। তিনি তরুণ সমাজকে এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকরাও তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তারা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক এবং ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী।
এই কর্মসূচি শুধু একটি দিনের কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক বার্তা বহন করে—নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাই এগিয়ে এলে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
উল্লেখ্য, আয়োজক সংগঠন ভবিষ্যতেও জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।