
সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)। শনিবার (২ মে) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একই সময়ে নতুন করে ৭২ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ রয়েছে এমন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪ জনে। এসব তথ্য দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত সারা দেশে হামে আক্রান্ত এবং উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৪ জনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংখ্যা পরিস্থিতির গুরুত্ব নির্দেশ করে এবং দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
এ সময়ে দেশে মোট শনাক্ত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ২১৮ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ৩৯ হাজার ৩২৫ জনের শরীরে। অর্থাৎ, আক্রান্তের পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হামের সন্দেহে মোট ২৬ হাজার ৯১১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ২৩ হাজার ২২৫ জন রোগী ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, যদি সময়মতো চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে।
হামের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। এসব উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর চাপও বেড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, শয্যা এবং চিকিৎসকসহ অন্যান্য সেবার প্রস্তুতি জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, দেশে হামের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।