
দেশজুড়ে সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেই ইথিওপিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সংসদীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সোমবার (১ জুন) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ক্ষমতাসীন প্রসপারিটি পার্টি বড় ব্যবধানে জয়লাভ করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ইথিওপিয়ায় ৫ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভোট দেওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে আবি আহমেদ বলেন, ইথিওপিয়ার জনগণ আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা নিজেদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পরিচালনায় সক্ষম এবং বাইরের কোনো পরামর্শের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি আগামী পাঁচ বছরকে দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সময় বলে উল্লেখ করেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকা আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলও ভোটগ্রহণকে সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল বলে মন্তব্য করেছে। পর্যবেক্ষক দলের প্রধান এবং কেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট Uhuru Kenyatta জানিয়েছেন, নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ভোটগ্রহণ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতাও ছিল। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও গৃহযুদ্ধের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের Tigray Region এলাকায় কোনো ভোটগ্রহণই সম্ভব হয়নি। দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি অঞ্চলটি।
এ ছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি অঞ্চল Amhara Region এবং Oromia Region-এর ১৪৩টি ভোটকেন্দ্র খোলা যায়নি। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, চলমান সশস্ত্র সংঘাতের কারণে এসব এলাকায় ভোট কার্যক্রম আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখতে হয়েছে।
২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসা Abiy Ahmed শুরুতে সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। ২০১৯ সালে প্রতিবেশী Eritrea-র সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে তিনি Nobel Peace Prize লাভ করেন।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ—সরকার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল করতে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি চাপ প্রয়োগ করছে। বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় মনে করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রসপারিটি পার্টিই আবারও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। আগামী ১১ জুনের মধ্যে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।