
চুয়াডাঙ্গা জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল-এর আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
মৃত শিশুর নাম আমির হামজা। সে দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ালগাছি গ্রামের ইব্রাহীমের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, হামের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২৯ এপ্রিল আমির হামজাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি করার পর তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে।
পরে শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৭৪ জন রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় মোট দুইজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নাজমুস সাকিব, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), জানান যে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং রোগীদের আলাদা করে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সব মিলিয়ে, চুয়াডাঙ্গায় হামের উপসর্গে একের পর এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সবার প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।