
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২ মে) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ব্যানারে শহরের বনরূপা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বনরূপায় এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দিয়ে একটি নির্দিষ্ট রায় প্রদান করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ৫১ শতাংশ ভোটের মাধ্যমে গঠিত রায়কে উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না এবং সরকার ধীরে ধীরে স্বৈরাচারী আচরণের দিকে এগোচ্ছে। তারা আরও বলেন, “জুলাই সনদ” নামে পরিচিত রাজনৈতিক সমঝোতা দলিল বাস্তবায়ন না করে তা অস্বীকার করা হচ্ছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দাবি করেন, নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বিশেষ করে বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল, তা এখন উপেক্ষা করা হচ্ছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সংসদের ভেতরে সমস্যার সমাধান না করা হয়, তাহলে রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমে সমাধান করা হবে। প্রয়োজনে জনগণ আবারও গণআন্দোলনের পথে নামবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর রাঙামাটি জেলা আমির অধ্যাপক মো. আব্দুল আলীম, সেক্রেটারি জেনারেল মো. মানছুরুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য শহিদুল ইসলাম, এলডিপি জেলা কমিটির সহসভাপতি কমল বিকাশ দেওয়ান, শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি আব্দুল সালাম এবং ইসলামী ছাত্র শিবির জেলা সভাপতি রবিউল ইসলামসহ অনেকে।
তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণ চরম সংকটে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নেতারা দাবি করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অবিলম্বে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, রাঙামাটির এই বিক্ষোভ সমাবেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গণভোট ও রাজনৈতিক সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বক্তারা।