
টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর এলাকায় এক নারীর ওপর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার একটি গ্রামে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী মির্জাপুর থেকে বেড়াতে গিয়ে ওই এলাকায় যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের মধ্যে মির্জাপুর পৌরসভার কাঁঠালিয়া গ্রামের নুরুল, কুতুববাজার এলাকার ব্যবসায়ী মালেক মিয়া এবং আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ভুক্তভোগী নারীকে একটি নির্জন বাসায় নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর সন্ধ্যার কিছু আগে ভুক্তভোগী নারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে কুমুদিনী হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। এরপর অবস্থার অবনতি হলে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে অচেতন অবস্থায় আছেন। জ্ঞান ফিরলে তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে দুই অভিযুক্ত নুরুল হক ও মালেক মিয়ার পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে পুরো ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন ঘটনা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আবারও নারী নিরাপত্তা এবং সামাজিক সচেতনতার বিষয়টি সামনে এনেছে। এখন সবার নজর পুলিশের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার দিকে।