
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হচ্ছে এবং এর জন্য দেশটিকে চরম মূল্য দিতে হবে। সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
গালিবাফ তার পোস্টে বলেন, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ড শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনাই বাড়াচ্ছে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, নৌ অবরোধ এবং লেবাননে চলমান সামরিক পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালন করছে না। এ ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ইরানের এই শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা বলেন, প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি মূল্য থাকে এবং সেই মূল্য একসময় পরিশোধ করতেই হয়। তিনি ইঙ্গিত দেন যে বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিকভাবে বড় ধরনের চাপ ও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে পারে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই ধরনের অবস্থান প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না। তিনি বলেন, ইরানের অগ্রাধিকার এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলেন। তার দাবি, সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও কিছু ঘটনায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই ধরনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। বিশেষ করে লেবানন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা এবং নৌ অবরোধ ইস্যু আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
তারা মনে করছেন, যদি দুই পক্ষ সংলাপে না বসে এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে সমঝোতা না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।