
টানা বৃষ্টিতে রংপুর মহানগরীর একাধিক এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে নগরীর অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (১ মে) রাত থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চলা বৃষ্টির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রংপুর মহানগরী-এর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে বাবুখা, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনি, পার্কের মোড় সর্দারপাড়া এবং লালবাগসহ আরও কয়েকটি স্থানে। এসব এলাকায় সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে যায়, ফলে যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের চলাফেরা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর মহানগরীতে মোট ৬৮.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই ভারী বৃষ্টিই মূলত নগরীর জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সিটি করপোরেশন সড়ক নির্মাণ করলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “প্রায় ৪০ বছর ধরে এখানে আছি, কিন্তু বৃষ্টি মানেই আমাদের দুর্ভোগ। প্রতি বছরই ড্রেন পরিষ্কারের কথা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে কাজ হয় না।”
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, এলাকায় নতুন নতুন বাড়ি হচ্ছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে না। ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন ভরে থাকায় পানি বের হতে পারে না, ফলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
এদিকে রংপুর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, তারা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, তাদের কর্মীরা মাঠে কাজ করছে এবং যত দ্রুত সম্ভব পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র বৃষ্টিপাত নয়, পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার অভাবই এই ধরনের জলাবদ্ধতার মূল কারণ। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
নগরবাসীর মতে, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে সামান্য বৃষ্টিতেই প্রতিবছর একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। এতে জনজীবন, যান চলাচল এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রংপুর মহানগরীর এই জলাবদ্ধতা আবারও নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বল দিকগুলো সামনে এনেছে। এখন সবার প্রত্যাশা, দ্রুত ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসান ঘটানো হবে।