
বর্তমান পরিস্থিতিতে পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং যুদ্ধ বন্ধ করাই ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই। সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (১ জুন) অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই স্পষ্টভাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই মুহূর্তে পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বিষয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। তার ভাষায়, “পারমাণবিক বিষয়ে কখন পদক্ষেপ নিতে হবে, তা আমরা জানি। কিন্তু এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো।”
তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইরান বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি জরুরি নিরাপত্তা সংকট হিসেবে দেখছে এবং পারমাণবিক আলোচনার চেয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়। বাঘাই দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়েও একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, এমনকি সোমবার সকালেও এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই অভিযোগ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। বাঘাই বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তেহরানের রয়েছে। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ইরান শক্ত অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সম্প্রতি ইরানের গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে রাডার ও ড্রোন স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই হামলাকে আত্মরক্ষামূলক অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে ইরান এই ধরনের পদক্ষেপকে উসকানিমূলক হিসেবে দেখছে এবং তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে মনে করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার—এই তিনটি বিষয় দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ায় উভয় পক্ষের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে উঠছে।
এমন পরিস্থিতিতে পারমাণবিক আলোচনা থেকে আপাতত সরে এসে যুদ্ধ বন্ধে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইরান প্রথমে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়, তারপর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করতে আগ্রহী হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে পারমাণবিক ইস্যু আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই এখন সবার নজর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং উত্তেজনা কমানোর দিকেই।