
দেশের সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের পেছনে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর গাফিলতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী Iqbal Hasan Mahmud Tuku। শনিবার রাজধানীতে এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন।
রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে Bangladesh Geological Survey Department আয়োজিত এক সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সচিব যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা অনেক ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। তার মতে, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতাও সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের পেছনে শুধুমাত্র বাস্তব চাহিদা নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে “কৃত্রিম বা আর্টিফিসিয়াল কারণ” কাজ করেছে। তার ভাষায়, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, “আবার আমাদের লোকজনও ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি। পারলে এই লাইন থাকত না, এখন তো আর সেই পরিস্থিতি নেই।” তার এই মন্তব্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ব্যবস্থাপনার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
তিনি আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার ৭৫ দিন পার হয়েছে এবং এই সময়ে তিনি মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়েই কাজ করছেন। একই সঙ্গে খনিজ সম্পদ বিভাগেও নতুনভাবে কাজ শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
সেমিনারে বক্তব্যে মন্ত্রী দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, এখন বড় বাজেট তৈরি হলেও গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। “গত ২০ বছর ধরেই মেগা বাজেট হচ্ছে, কিন্তু গবেষণায় আমরা কত টাকা দিচ্ছি সেটাই প্রশ্ন,” বলেন তিনি।
তার মতে, যে দেশ গবেষণায় পিছিয়ে থাকে, সেই দেশ দীর্ঘমেয়াদে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তাই প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতে সাম্প্রতিক সময়ে যে চাপ ও সংকট দেখা দিয়েছে, তা শুধু সরবরাহ নয়, বরং ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত বিভিন্ন দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। মন্ত্রীর এই বক্তব্য সেই আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ অবস্থান ও চ্যালেঞ্জগুলো আবারও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে খনিজ ও জ্বালানি খাতে গবেষণা ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।