
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি নিজেকে “যুদ্ধবিরোধী নেতা” হিসেবে উপস্থাপন করলেও ক্ষমতায় এসে তার নীতি অনেক ক্ষেত্রেই আগ্রাসী রূপ নেয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প তার দুই মেয়াদে অন্তত ১৫টি দেশকে সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন, আবার কিছু ক্ষেত্রে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই তালিকায় মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোও রয়েছে।
সিএনএন-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরেই যুক্তরাষ্ট্র অন্তত সাতটি দেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি বা চাপ প্রয়োগের কথাও বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প ওমানকে উদ্দেশ করে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য ও পদক্ষেপকে অনেক সময় চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখা হয়, যার লক্ষ্য প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে রাজনৈতিক বা কৌশলগত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করা। তবে সমালোচকরা মনে করেন, এ ধরনের নীতি বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে কিছু সামরিক অভিযান বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মাদকবাহী নৌকার বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে বহু প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যেসব দেশকে তিনি হুমকি দিয়েছেন বা লক্ষ্যবস্তু করেছেন, সেখানে বিশ্বের প্রায় ১১ শতাংশ জনগোষ্ঠী বসবাস করে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত এক-চতুর্থাংশ দেশের বিরুদ্ধে কোনো না কোনোভাবে সামরিক হুমকি বা চাপ ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নীতিতে শুধু হুমকি নয়, কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে, যা চারটি মহাদেশে বিস্তৃত—এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা। ইউরোপের ক্ষেত্রে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত মন্তব্যও আলোচনায় এসেছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অংশ হিসেবে দেখানোর মতো মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প, যার মধ্যে কানাডা, কিউবা, পানামা, গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলার নাম রয়েছে।
তবে এই প্রতিবেদন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ভিন্নমত রয়েছে। সমর্থকরা এটিকে কৌশলগত নিরাপত্তা নীতি হিসেবে দেখলেও সমালোচকরা বলছেন, এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ করে তুলছে।
এ বিষয়ে এখনো ট্রাম্প বা তার ঘনিষ্ঠদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।