
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি কখনো বেকারত্ব সৃষ্টি করে না বরং কর্মসংস্থান তৈরির রাজনীতি করে আসছে। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার মধ্যে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা অন্যতম ছিল।
সোমবার (১ জুন) রাজধানীতে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও তোলেন।
রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৈরি পোশাক শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার ভাষায়, সেই সময় থেকেই কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি ধারাবাহিকতা শুরু হয়, যা বিএনপি সরকার বিভিন্ন সময় বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ ষড়যন্ত্রমূলক জাল তৈরি করা হয়েছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তার মতে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তি জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাচ্ছে।
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, উসকানি দিয়ে দেশে “মব কালচার” তৈরি করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী সংগঠিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে।
রিজভী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বলেন, স্বাধীনতার নামে যদি কুৎসা ও অপপ্রচার চালানো হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করে দেয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, অতীতের মতো কোনো ফ্যাসিবাদী পরিস্থিতি ফিরে এলে এবং বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তাই সব পক্ষকে সময় থাকতে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের ধারাবাহিকতা বেড়েছে। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংলাপ ও সহনশীলতা বজায় রাখা জরুরি বলে তারা মত দেন।
তবে রিজভীর এই বক্তব্যকে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মসূচির ধারাবাহিক ব্যাখ্যা হিসেবেই দেখছেন দলীয় সমর্থকরা। তারা মনে করেন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিএনপির রাজনৈতিক এজেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এদিকে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এসব মন্তব্যের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।