
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে প্রকাশিত ইউএফও (Unidentified Flying Object) ফাইল ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই চীনের এক গবেষকের মন্তব্য নতুন করে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে। বেইজিংয়ের গবেষক ঝাং নান সম্প্রতি একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, যা ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সামরিক ইনফ্রারেড সেন্সরে ধারণ করা হয়েছিল।
প্রায় পাঁচ মিনিট দীর্ঘ ওই ভিডিওতে একটি মানবাকৃতির বস্তু আকাশে ভেসে থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সেটি হঠাৎ করেই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে অন্য স্থানে চলে যায়, যা প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানের ব্যাখ্যার বাইরে বলে দাবি করছেন গবেষকরা।
ঝাং নান জানান, ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়েছে যে বস্তুটির গতি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের চেয়েও প্রায় ৬০০ গুণ বেশি হতে পারে। তার মতে, এমন গতি বর্তমান মানব প্রযুক্তি কিংবা কোনো পরিচিত জীবিত প্রাণীর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে বিষয়টি সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
ভিডিও বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, বস্তুটির কোনো দৃশ্যমান ইঞ্জিন, প্রপালশন সিস্টেম বা ধোঁয়া নির্গমনের চিহ্ন নেই। চলার সময় বস্তুটির আকৃতিতেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যা বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এসব পর্যবেক্ষণ সঠিক হয়, তবে এটি প্রচলিত বিমান বা ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
গবেষক ঝাং নান আরও বলেন, ৬০০ জি-এর বেশি গতির সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এটি প্রমাণ করার জন্য আরও বিস্তারিত ডেটা ও উচ্চমানের বিশ্লেষণ প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) থেকে প্রকাশিত নতুন ইউএফও ফাইলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট এবং বিশ্লেষণযোগ্য, যা গবেষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
ইউএফও সংক্রান্ত এ ধরনের ভিডিও দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সামরিক রাডার ও ইনফ্রারেড সেন্সরে ধারণ করা এসব অজানা বস্তুর গতিবিধি নিয়ে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে নানা ধরনের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ এগুলোকে উন্নত প্রযুক্তির মানবনির্মিত যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন, আবার অনেকে একে এখনো অজানা কোনো প্রাকৃতিক বা বহির্জাগতিক ঘটনা বলে মনে করেন।
ঝাং নানের এই নতুন বিশ্লেষণ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে “মানব-আকৃতির বস্তু” এবং তার অস্বাভাবিক গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিনি নিজেও নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি এবং বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক ইউএফও ফাইল প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এসব ফাইলে থাকা ভিডিও ও তথ্য এখন বিভিন্ন দেশের গবেষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ফ্লোরিডার ওই পাঁচ মিনিটের ভিডিও এবং চীনা গবেষকের বিশ্লেষণ ইউএফও রহস্যকে আরও এক ধাপ সামনে নিয়ে গেছে, যেখানে এখনো নিশ্চিত কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।