
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে। জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, আর সেই ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন Donald Trump।
বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে এই প্রভাব আরও বেশি দৃশ্যমান। Los Angeles-এর একটি গ্যাস স্টেশনে দেখা গেছে, যুদ্ধের আগে যেখানে একটি গাড়ির ট্যাংক ভরতে তুলনামূলক কম খরচ হতো, এখন সেখানে অতিরিক্ত ২৫–৩০ ডলার পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে। এতে করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাইডার থমাস, যিনি একটি পিকআপ ট্রাকে জ্বালানি নিচ্ছিলেন, জানিয়েছেন তার ট্যাংক পূর্ণ করতে এখন ১৩০ ডলার খরচ হচ্ছে। বার্তা সংস্থা Agence France-Presse-কে তিনি বলেন, “দামের জন্য মেজাজ হারাচ্ছি, কিন্তু যে কারণে এত বেশি হলো, সেটাই আমাকে আরও বেশি ক্ষুব্ধ করছে।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক চাপ নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ২০২২ সালের শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তখন Russian invasion of Ukraine শুরু হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। এবার মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি United States ও Israel যৌথভাবে Iran-এ হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz-এ জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে বাধা সৃষ্টি হওয়া মানেই বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধরনের চাপ।
এরই প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৬ ডলারেরও বেশি হয়ে গেছে, যা যুদ্ধের আগে প্রায় ৪.৫০ ডলারের মধ্যে ছিল। এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবহন খরচ বাড়াচ্ছে না, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এই যুদ্ধের প্রয়োজন ছিল না। রাইডার থমাস তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি অনেকটা Iraq War-এর মতো, যেখানে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অভিযোগ পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়নি।
তবে সবাই যে একমত, তা নয়। একই গ্যাস স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাম্প সমর্থক ডেভিড শাভেজ বলেন, “এটা ভালো নয়; আমরা গ্যাসের জন্য বেশি দাম দিতে চাই না।” তবে তিনি একা ট্রাম্পকে দায়ী করতেও রাজি নন। তার মতে, পর্দার আড়ালে কী ঘটছে, তা সাধারণ মানুষ পুরোপুরি জানে না, তাই সব দায় এক ব্যক্তির ওপর চাপানো ঠিক নয়।
এদিকে, ট্রাম্প নিজে বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এই সামরিক পদক্ষেপ জরুরি ছিল। তিনি এটিকে স্বল্পমেয়াদি সংঘাত হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখন অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা এই অসন্তোষ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।