
চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলায় সাপের কামড়ে শাফায়াত উল্লাহ (৪০) নামে এক জামায়াত নেতা ও মসজিদের ইমামের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দর্শনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোখলেসুর রহমান।
নিহত শাফায়াত উল্লাহ জেলার বেগমপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় বহুলাপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পাশাপাশি তিনি বেগমপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ওলামা বিভাগের সভাপতি ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাতে খাবার শেষে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন শাফায়াত উল্লাহ। রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে একটি সাপ দংশন করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও দাওয়াতি কাজে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাফায়াত উল্লাহ বেগমপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ওলামা বিভাগের সভাপতি ছিলেন এবং স্থানীয় দুটি মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
তিনি আরও জানান, তার মৃত্যুতে সংগঠন ও স্থানীয় ধর্মীয় মহলে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়, যা প্রায়ই এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা উল্লেখ করেন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেরি হলে রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।
শাফায়াত উল্লাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি গ্রামীণ এলাকায় সাপ নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির আহ্বান জানিয়েছেন।
তার জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি স্থানীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।