
সাত দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১ মে) গভীর রাতে তিনি এই সফরে রওনা হন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত তিনটার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে তিনি জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এই সফরকে তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। এছাড়া আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান-ও এই সফরে অংশ নিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাপান সফরকালে ডা. শফিকুর রহমান দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়ে অংশ নেবেন। এই বৈঠকগুলোতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে এই সফর গুরুত্ব বহন করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যদিও সফরের বিস্তারিত এজেন্ডা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি যে একটি কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সফর—তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এটি তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিদেশ সফর। এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, দলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, সফর শেষে আগামী ৯ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ডা. শফিকুর রহমানের এই জাপান সফর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও প্রভাব ফেলতে পারে।