
বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন সুহেইলা মুখতার নামের এক মুসলিম শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানে তার করা সূরা আল-আলাকের সুমধুর তিলাওয়াত উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের গভীরভাবে মুগ্ধ করে।
গত মঙ্গলবার (২৬ মে) সমাবর্তনের উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে নির্বাচিত অংশ পাঠ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুহেইলা মুখতার মঞ্চে এসে সূরা আল-আলাকের প্রথম কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার তিলাওয়াতের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে প্রশংসার জোয়ার দেখা যায়। অনেকেই এটিকে ধর্মীয় সম্প্রীতি, বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান এবং শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধের সুন্দর সমন্বয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সুহেইলা মুখতার ২০২২-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে স্নাতক সম্পন্ন করেন। শুধু ধর্মীয় পরিচয় নয়, একাডেমিক এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি উজ্জ্বল সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন।
মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে তিনি ‘জন হার্ভার্ড স্কলার’ এবং ‘প্রাইজ ফেলো’ সম্মাননায় ভূষিত হন। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও সমাজ উন্নয়ন বিষয়ে তার একাধিক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সার্জিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল সার্জিক্যাল জার্নালে স্বার্থের সংঘাত, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ডিজিটালায়ন এবং নারীর ক্ষমতায়ন।
এ ছাড়া মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং এবং অনলাইন শিক্ষার আচরণগত বিষয়েও তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি ‘হার্ভার্ড মুসলিম উইমেনস মেডিক্যাল অ্যালায়েন্স’, ‘হার্ভার্ড আন্ডারগ্র্যাজুয়েট হেলথ পলিসি রিভিউ’ এবং ‘স্ট্রাইভ বোস্টন’-এর মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
পাশাপাশি ২০২৪ সাল থেকে তিনি মাউন্ট অবার্ন হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক ও রোগী সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করছেন। মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি একাডেমিক উৎকর্ষতার মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
হার্ভার্ডের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে পবিত্র কোরআনের বাণী তুলে ধরা এবং একই সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণায় অসাধারণ সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে সুহেইলা মুখতার আজ বিশ্বের অসংখ্য তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।