
নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় একটি ট্রাকে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রহস্য ও ধোঁয়াশা। শুক্রবার (১ মে) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় চলন্ত বা দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখতে পান এবং দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে কাঁচপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা আরও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
তবে আগুন নিভে যাওয়ার পরই ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। ট্রাকটির প্রায় ১০ ফুট দূরে সড়কের ওপর রক্তের দাগ দেখতে পান স্থানীয়রা ও উদ্ধারকর্মীরা। এতে ঘটনাটি শুধুমাত্র অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা থাকতে পারে—এমন সন্দেহ তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ট্রাকটিকে আগুনে পুড়তে দেখার পাশাপাশি সড়কে রক্তের চিহ্নও লক্ষ্য করেন, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তোলে।
কাঁচপুর মডেল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে কীভাবে ট্রাকে আগুন লেগেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে ট্রাকের চালক বা কোনো সহকারীকে পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ পরিদর্শক জুলহাস জানান, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। তিনি নিশ্চিত করেন যে, ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে, তবে সেখানে কোনো আহত বা নিহত ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। পরে একটি রেকার এনে পুড়ে যাওয়া ট্রাকটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ এটিকে নিছক দুর্ঘটনা মনে করলেও রক্তের দাগের উপস্থিতি পুরো ঘটনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে চালক ও সহকারীর অনুপস্থিতি এবং আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ অজানা থাকায় রহস্য আরও গভীর হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ উভয়ই জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার উৎস নির্ধারণ করা না গেলেও সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই অগ্নিকাণ্ড ও রক্তের দাগকে কেন্দ্র করে কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে এমন ঘটনা নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে বলে আশা করছে স্থানীয় প্রশাসন।