
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃষ্টির পরিবারের কাছে ফ্লোরিডা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে ফোন করে জানানো হয় যে, উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় একটি মরদেহ তারই। পুলিশের এই নিশ্চিতকরণের পর পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
শুক্রবার (১ মে) ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, মিয়ামিতে থাকা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় চলছে।
এর আগে একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনাও তখন থেকেই আলোচনায় আসে।
বৃষ্টির মরদেহ ফ্লোরিডার আই-২৭৫ হাইওয়ে এবং ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানায়, মরদেহের অংশবিশেষ উদ্ধার করে শনাক্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কনস্যুলেট মিলে মরদেহ দেশে পাঠানোর কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কাজ শুরু করেছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃষ্টির এই আকস্মিক মৃত্যু তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও অপ্রত্যাশিত। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ফ্লোরিডার এই ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও শোক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় কমিউনিটিতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখনো পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পুলিশ বলছে, কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে এই মৃত্যু ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।