
দেশের চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রস্তাব করেছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এই বাজেটে সরকার ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে বড় অংশ আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে, পাশাপাশি নন-এনবিআর ও অন্যান্য উৎস থেকেও আয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রাজস্ব আয়ের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি থাকছে, যা অর্থায়নের জন্য বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরতা বাড়াবে।
সরকারের পরিকল্পনায় উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এডিপিতে পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বিনিয়োগ বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা এবং আর্থিক খাত সংস্কারকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকার একই সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
নতুন বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যবসা সহজীকরণ, কর কাঠামো সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগও থাকছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ও বড় বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।