
ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই অবকাঠামো পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে সেতু দুটির মাধ্যমে পারাপার হওয়া যানবাহন থেকে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা টোল আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২১ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ১০ দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে মোট ৩৬ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
অন্যদিকে একই সময়ে যমুনা সেতু দিয়ে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় সেতুটি থেকে মোট ২৭ কোটি ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে।
দুই সেতুর সম্মিলিত হিসাব অনুযায়ী, ১০ দিনে মোট ৬ লাখ ৮০ হাজারের বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক যাতায়াতের কারণে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পদ্মা ও যমুনা সেতুর কার্যকর ব্যবস্থাপনা, উন্নত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন হয়েছে। ফলে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে না থেকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের মানুষের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সরকার সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের কারণে সেতু এলাকায় যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়নি। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ স্বস্তির সঙ্গে ঈদযাত্রা সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
সেতু কর্তৃপক্ষের মতে, পদ্মা ও যমুনা সেতু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ঈদের মতো বড় উৎসবকে সামনে রেখে এই দুই সেতুর কার্যকর পরিচালনা দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।