
ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার ভাঙ্গা বাজার এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি সমিল ও একটি বরফ কল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত ঘটে ভাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মিরু মুন্সীর মালিকানাধীন একটি সমিলে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় অবস্থিত বরফ কলে। মুহূর্তেই পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সমিলের ভেতরে থাকা একাধিক মোটর, কাঠ ও গাছের গুঁড়ি পুড়ে যায়। একই সঙ্গে পাশের বরফ কলে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ফ্রিজ, মেশিন ও অন্যান্য মালামালও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় বহুতল ভবনের ওপরের তলায় থাকা বাসিন্দারা আগুনের তীব্র তাপ ও ধোঁয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে তারা দ্রুত অন্য ছাদের ওপর দিয়ে নিরাপদ স্থানে নেমে আসেন বলে জানা গেছে। এতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে সমিল ও বরফ কলের বড় অংশই পুড়ে যায়।
ভাঙ্গা ফায়ার স্টেশনের ম্যানেজার আবু জাফর জানান, তারা রাত ৩টা ২৪ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পান এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভোরের এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে সমিল ও বরফ কলের মালামাল সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটিকেই কারণ হিসেবে দেখা হলেও নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।