
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং সেনা সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (৩১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে দুইটি বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়, ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত ব্যক্তির নাম জিয়াউল ইসলাম (৪৫)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনার শিকার যাত্রীবাহী বাসের যাত্রী ছিলেন তিনি। দুর্ঘটনার পর তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হিমেল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস খুলনা থেকে জামালপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। অপরদিকে ঈদের ছুটি শেষে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনা সদস্যদের বহনকারী একটি বাস খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসের দিকে যাচ্ছিল। পথে তালবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে দুই বাসের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
সংঘর্ষের তীব্রতায় দুই বাসই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়ে আহত হন। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে চিৎকার ও কান্নার শব্দে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।
আহতদের দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, দুর্ঘটনায় আহত অনেককে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে আহত সেনা সদস্য মেহেদী হাসান জানান, তারা বগুড়া থেকে খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসে এএসসি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে যোগদানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে তাদের বাসের প্রায় সবাই আহত হন।
যাত্রীবাহী বাসের আরেক যাত্রী জীবন ইসলাম বলেন, তিনি চাকরির পরীক্ষার উদ্দেশ্যে খুলনা থেকে জামালপুর যাচ্ছিলেন। হঠাৎ দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাসে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়েন এবং বহু মানুষ আহত হন। তার মতে বাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন।
কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ওসি আল ওবায়েদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, সেনা সদস্যবাহী বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪২ জন নতুন রিক্রুট সেনা সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আহত হয়েছেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন, দুর্ঘটনায় একজন বেসামরিক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে আসে। মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।