
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত Bangladesh National Zoo, Mirpur এখন নতুন এক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা বিরল অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ প্রতিদিনই অসংখ্য দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করছে।
গোলাপি-সাদা রঙের এই মহিষটি তার ব্যতিক্রমী শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে দ্রুতই দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাণীটির জন্য বিশেষ যত্ন ও পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে তীব্র গরমেও এটি স্বস্তিতে থাকতে পারে।
গরমের কারণে মহিষটিকে দিনে দুই থেকে তিনবার গোসল করানো হচ্ছে। শরীর ঠান্ডা রাখতে নিয়মিত পাইপের মাধ্যমে পানি ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি খাঁচার ভেতরে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে স্ট্যান্ড ফ্যান বসানো হয়েছে। প্রয়োজনে আরও অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, এই মহিষটিকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ কেজি নেপিয়ার ঘাস এবং প্রায় ৫ কেজি ছোলা ও ভুসি খাওয়ানো হচ্ছে। দিনে প্রায় আধা মণ পানি পান করে প্রাণীটি। গরমের তীব্রতা ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ভবিষ্যতে খাদ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে।
নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী দিনে কয়েক ধাপে খাবার দেওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে ছোলা ও ভুসি, বেলা ১১টার দিকে ঘাস, দুপুর ২টার পরে আবার ঘাস এবং বিকেল ৩টার দিকে পুনরায় ছোলা-ভুসি দেওয়া হয়। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে প্রাণীটির স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক আচরণ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
এই বিরল মহিষটি চিড়িয়াখানায় আনা হয় বুধবার (২৭ মে) রাতে। বর্তমানে এটি নির্ধারিত ‘এল-০৭’ নম্বর খাঁচায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য খাঁচার সামনে বাংলা ও ইংরেজিতে পরিচিতি বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে লেখা রয়েছে “সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)” এবং “Albino Buffalo”।
প্রাণীটির পাশের খাঁচায় একটি গয়াল রাখা হয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে। তবে নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং নিরাপত্তার কারণে মহিষটিকে রশি দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত বিরল। প্রতি হাজারের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক প্রাণীর মধ্যেই এই ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। ফলে এই মহিষটি শুধু দর্শনার্থীদের জন্য নয়, গবেষণা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই বিরল প্রাণীটি ভবিষ্যতে দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও শিক্ষামূলক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়িয়ে চিড়িয়াখানার আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি করেছে।