
নেত্রকোনায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়েসহ ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। রোববার (৩১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা এলাকায় নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নেত্রকোনা সদরের রৌহা ইউনিয়নের নূর জাহান (৪৫), তার মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৫) এবং আরও এক অজ্ঞাত শিশু। দুর্ঘটনায় একই ইজিবাইকে থাকা আরও পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনাগামী মহুয়া পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস চল্লিশা বাইপাস মোড়ে একটি যাত্রীবাহী ইজিবাইককে সজোরে চাপা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
নিহত নূর জাহানের স্বামীসহ আহত পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় নেত্রকোনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন, ফলে কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেন।
তিনি দ্রুত সেখানে স্পিডব্রেকার ও গোলচত্বর নির্মাণের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ধীরে ধীরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মহাসড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির বাস ও অন্যান্য যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ছোট যানবাহন যেমন ইজিবাইক ও অটোরিকশা ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এদিকে, এ দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালকদের বেপরোয়া গতি, পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।
সব মিলিয়ে নেত্রকোনার এই দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং নিহতদের পরিবারে চলছে মাতম।