
কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব মোজতবা খামেনি-এর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানিয়েছে তেহরান। শুক্রবার তার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম তদারকি করছেন।
এই ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেছে ইরান। নেতার আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের উপ-প্রধান সংবাদমাধ্যমকে জানান, কিছু পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়িয়ে ইরানকে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা।
গত মার্চ মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর এক সাক্ষাৎকারের পর থেকেই এই গুঞ্জনের সূত্রপাত। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, মোজতবা খামেনি আদৌ জীবিত আছেন কি না। তার এই মন্তব্য দ্রুতই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার খবর প্রকাশিত হয়। ওই হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর থেকে মোজতবা খামেনি দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে না আসায় নানা জল্পনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
এমনকি মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ওই হামলায় ইরানি নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার চেহারায় বিকৃতি এসেছে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে এসব দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। সর্বশেষ বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি নিজেও লিখিতভাবে জানান, তিনি সুস্থ আছেন এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতি স্বীকার না করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। এই সক্ষমতা রক্ষায় জনগণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যদিও এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা মতবিরোধ রয়েছে, তবুও ইরান তার অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে মোজতবা খামেনির সম্পর্ক নিয়ে যে বিভেদের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, সেটিকেও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছে তেহরান। জানানো হয়েছে, এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই বিবৃতির মাধ্যমে ইরান সরকার আন্তর্জাতিক মহলে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে—দেশের নেতৃত্ব নিয়ে যে গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, তা সত্য নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে এবং নেতৃত্ব সক্রিয়ভাবেই দায়িত্ব পালন করছে।