
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের আমুভূঞার হাট–চন্দ্রদ্বীপ সংযোগ সড়ক ও নির্মাণাধীন আরসিসি গার্ডার সেতু উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে। প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের একাধিক অংশ সামান্য বৃষ্টিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় এই উন্নয়ন কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ২০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কালাম এন্টারপ্রাইজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশে নির্মিত গার্ডওয়ালের নিচের মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের ফাঁকা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, গর্ত এবং কার্পেটিং ভেঙে পড়ার চিত্র দেখা যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধুয়ে যাওয়ায় পুরো অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাজ চলমান থাকতেই নিম্নমানের নির্মাণ ও যথাযথভাবে মাটি ভরাট না করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, যদি কাজ শেষ হওয়ার আগেই এমন অবস্থা হয়, তাহলে বর্ষাকালে পুরো সড়ক ও সেতু ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।
আমুভূঞার হাটের ব্যবসায়ী নূরের নবী বলেন, সেতুর দুই পাশে মাটি সরে যাওয়ায় মানুষ এখন ভয় নিয়ে চলাচল করছে। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দ্রুত সংস্কার ও তদন্তের দাবি জানান।
স্থানীয় যুবক মো. আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, নির্মাণ কাজে সঠিকভাবে কম্প্যাকশন ও মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। নিম্নমানের কাজের কারণেই অল্প বৃষ্টিতেই এমন ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, বর্ষাকালে উন্নয়ন কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। এখনই যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে পুরো প্রকল্প টিকবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কালাম এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দাগনভূঞা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাছুম বিল্লাহ জানান, বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়রা প্রকল্পটির গুণগত মান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে, যার চূড়ান্ত ভোগান্তি ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এই ঘটনা আবারও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।