
পরীক্ষা চলাকালীন অনিয়ম ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ময়মনসিংহের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় সরাসরি ১০ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর A S M Amanullah।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল), যখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। উপাচার্য বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের একাধিক পরীক্ষা কেন্দ্রে যান এবং সেখানে পরীক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনের সময় অসদুপায় অবলম্বনের প্রমাণ পাওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ১০ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উপাচার্য বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা যদি সঠিকভাবে পরিচালিত না হয়, তবে সেটি আর প্রকৃত মূল্যায়ন নয়, বরং একটি প্রহসনে পরিণত হয়। তিনি বলেন, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবহেলা বা নৈতিক দুর্বলতার কারণে পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম ঘটে। তাই শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের নয়, সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের দায়িত্বশীলদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
উপাচার্য আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে পরীক্ষার মানোন্নয়ন এবং নকলমুক্ত পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে তিনি ময়মনসিংহে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এই সফরের অংশ হিসেবেই তিনি বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে যান এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে পরীক্ষায় অসদুপায় একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এটি শুধু ব্যক্তিগত নৈতিকতার বিষয় নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রতিফলন।
বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু না করলে এ ধরনের অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। তবে সরাসরি বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়।
ঘটনাটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এটিকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে আরও পূর্বপ্রস্তুতি ও তদারকি বাড়ানো উচিত।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।