
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একই স্থান ও একই সময়ে দুটি ভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণার ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে উপজেলার ভুশ্চি এলাকার ছোট শরীফপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুটি পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সেখানে একটি ঈদ পুনর্মিলনী সভার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতে প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা ও কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, একই মাঠে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারীরা। ফলে একই স্থান ও সময়ে দুটি পৃথক কর্মসূচি ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-১০ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণকে কেন্দ্র করেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ ঈদ পুনর্মিলনীতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটিয়ে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্য পক্ষ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে চাচ্ছে।
এদিকে প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে এক পক্ষ লিখিতভাবে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অন্য পক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত আবেদন পাওয়া যায়নি।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের পুলিশ সুপার ও ডিআইজি কার্যালয়ে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষের সঙ্গে মৌখিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একই মাঠে একই সময়ে দুটি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।
পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে এখন পুরো এলাকায় কৌতূহল ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।