
গ্রিন কার্ড আবেদন সংক্রান্ত নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। সম্প্রতি ঘোষিত আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী সব অভিবাসীকে আবেদনের জন্য নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে না।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বক্তব্যে ডিএইচএসের এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পূর্বের নির্দেশনা মূলত কিছু কর্মকর্তার ‘একচ্ছত্র বিবেচনামূলক ক্ষমতা’ ব্যবহারের একটি অনুস্মারক ছিল। অর্থাৎ এটি সব আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়।
গ্রিন কার্ড হলো যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি নাগরিকের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রদানের সরকারি পরিচয়পত্র। যদিও এটি নাগরিকত্ব প্রদান করে না, তবে এর মাধ্যমে একজন বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।
এর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) একটি নির্দেশনায় জানায়, যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে চান, তাদের আবেদন প্রক্রিয়ার সময় নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।
ডিএইচএসের নতুন ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে—যেমন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা ব্যক্তি বা যারা সরকারি সহায়তার ওপর বেশি নির্ভরশীল—তাদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এটি সর্বজনীন বাধ্যবাধকতা নয়।
নতুন এই অবস্থানকে নিউ ইয়র্ক টাইমস ট্রাম্প প্রশাসনের একটি ‘ইউ-টার্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। কারণ আগের নির্দেশনা অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছিল যে, সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং অভিবাসন আইনজীবীরা আগের নির্দেশনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তাদের মতে, এমন নীতি অভিবাসন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলবে এবং বহু আবেদনকারীর জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
নতুন ব্যাখ্যার পর গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।