
গণভোটের ‘হ্যাঁ ভোট’ প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর ওপর ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনকে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের শুরুতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত তিনটি সংগঠনের মধ্যে একটি তখনও নিবন্ধিত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন দেখা দেয়। এতে করে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এ ধরনের অর্থায়নের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। তাদের দাবি, সিএসআর তহবিল মূলত সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত, যা কোনো রাজনৈতিক বা ভোটসংক্রান্ত প্রচারণায় ব্যবহার করা নিয়মবহির্ভূত।
তবে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত কিছু অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গেছে। প্রায় ৪ কোটি টাকা তিনটি সংগঠন—সুশাসনের জন্য নাগরিক, স্টুডেন্টস অ্যাগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন ফাউন্ডেশন এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি—এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথি অনুযায়ী, এই ধরনের অর্থায়ন বিদ্যমান ব্যাংকিং নীতিমালা এবং সিএসআর কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিক বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিল কোনো ভোট প্রচারণায় ব্যবহার করা যেতে পারে না।
অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি সরকার-নির্দেশিত বলে জানানো হয় এবং তা অনুসরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়। তবে লিখিত নির্দেশনা চাওয়া হলেও তা প্রদান করা হয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
যদিও নির্ধারিত ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ সম্ভব হয়নি, তবুও আংশিক অর্থ প্রদানকে ঘিরে ব্যাংকিং খাতে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের চাপ ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নীতিগত অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।