
বিশ্বসংগীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসন-কে বড় পর্দায় জীবন্ত করে তোলা সহজ কাজ নয়। তার নাচ, স্টাইল কিংবা উপস্থিতি—সবকিছুই ছিল অনন্য। তবে অনেকেই হয়তো ভাবেন, এই চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয় অভিনেতাকে। বাস্তবে এর পেছনে আরও বড় একটি দল নিরলসভাবে কাজ করে, বিশেষ করে কস্টিউম ডিজাইনারদের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে জাফর জ্যাকসন-কে দুই বছরের বেশি সময় ধরে কঠোর প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। নিজের চাচার মতো চলাফেরা, অভিব্যক্তি এবং পারফরম্যান্স আয়ত্ত করতে তিনি দীর্ঘ সময় অনুশীলন করেছেন। কিন্তু এই সব প্রচেষ্টা তখনই সফল হতো, যখন পর্দায় তার চেহারা ও পোশাক মাইকেল জ্যাকসনের মতো নিখুঁতভাবে ফুটে উঠত।
ঠিক এখানেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন কস্টিউম ডিজাইনার মার্সি রজার্স। তার কাজ ছিল মাইকেল জ্যাকসনের বিখ্যাত ও আইকনিক পোশাকগুলো নতুন করে তৈরি করা, যাতে দর্শক পর্দায় সেই পুরোনো জাদুকেই আবার অনুভব করতে পারেন।
মাইকেল জ্যাকসনের পোশাক শুধু ফ্যাশন নয়, বরং তার পরিচয়ের অংশ ছিল। তার গ্লিটার জ্যাকেট, বিখ্যাত গ্লাভস, টুপি কিংবা স্টেজ আউটফিট—প্রতিটি আইটেমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশেষ ইতিহাস ও আবেগ। তাই এগুলো পুনর্নির্মাণ করতে গিয়ে ডিজাইনারকে শুধু নকশা নয়, প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়েছে।
মার্সি রজার্সকে পুরোনো ফুটেজ, ছবি এবং বিভিন্ন আর্কাইভ ঘেঁটে প্রতিটি পোশাকের সঠিক ডিজাইন, কাপড়ের ধরন এবং রঙ নির্ধারণ করতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পোশাকের একাধিক সংস্করণ তৈরি করতে হয়েছে, যাতে শুটিংয়ের বিভিন্ন দৃশ্যে তা ব্যবহার করা যায়।
এছাড়া, অভিনেতার শরীরের গঠন অনুযায়ী পোশাকগুলোকে মানিয়ে নেওয়াও ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বাস্তব জীবনের মাইকেল জ্যাকসনের শারীরিক গঠন ও স্টাইলকে পর্দায় ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে হলে পোশাকের ফিটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় সময়, ধৈর্য এবং নিখুঁত মনোযোগ প্রয়োজন ছিল। একটি ভুল ডিজাইন বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক পুরো চরিত্রটিকেই দুর্বল করে দিতে পারত। তাই প্রতিটি পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যত্ন নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে শুধু অভিনয় নয়, বরং কস্টিউম ডিজাইনের পেছনেও বিশাল পরিশ্রম ও পরিকল্পনা কাজ করেছে। পর্দার আড়ালে থাকা এই প্রচেষ্টা না থাকলে দর্শক হয়তো সেই পরিচিত ও প্রিয় রূপটি এত নিখুঁতভাবে দেখতে পেতেন না।