
চলমান এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে প্রতারণার ঘটনায় রংপুরে এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভুয়া তথ্য প্রচার করে আসছিল। এই প্রলোভনে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি পুলিশের সদর দপ্তরের ল’ এনফোর্সমেন্ট ইন্টেলিজেন্স সেল (এলআইসি) শাখার নজরে আসে। এরপর তারা অনুসন্ধান শুরু করে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে চক্রটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়।
তদন্তের এক পর্যায়ে রংপুর মহানগরীর শালবন এলাকায় আরসিসিআই স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন একটি মেসে চক্রের এক সদস্যের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই শিক্ষার্থী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে আরসিসিআই স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষার্থী অনলাইনে ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রির মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার মোবাইল ফোনে এই সংক্রান্ত একাধিক চ্যাট, পোস্ট এবং ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার বিকাশ অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক একাধিক লেনদেনের তথ্যও মিলেছে, যা প্রতারণার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, পরীক্ষার সময়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতারণা নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরই কিছু অসাধু চক্র শিক্ষার্থীদের চাপ ও ভালো ফলাফলের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে অর্থ আদায় করে। এতে অনেক পরিবার প্রতারণার শিকার হয় এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা নেওয়া হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে আমাদের অনুরোধ থাকবে, কোনো ধরনের গুজব বা ভুয়া প্রশ্নপত্রের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য। প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত অধিকাংশ তথ্যই মিথ্যা ও প্রতারণামূলক। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
বর্তমানে পুলিশ এই ঘটনার পেছনে থাকা সম্ভাব্য অন্য সদস্যদের শনাক্তে কাজ করছে। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই প্রতারণা চক্র আবারও প্রমাণ করেছে যে, প্রযুক্তির অপব্যবহার শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।