
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে মর্যাদার ম্যাচের আগে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে দেখা যাচ্ছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমের ছাপ। গোয়ার ডন বস্কো বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে অনুশীলন শেষে যখন অন্য খেলোয়াড়রা টিম বাসে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনও মাঠে একা অতিরিক্ত অনুশীলনে ব্যস্ত ছিলেন সুইডিশ প্রবাসী স্ট্রাইকার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী।
পেনাল্টি অনুশীলনে গোলরক্ষক মিলি আক্তারকে বারবার পরাস্ত করে নিজের দক্ষতা ঝালিয়ে নিতে দেখা যায় তাকে। ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে প্রায় ১০ মিনিট বাড়তি অনুশীলন করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তার এমন পরিশ্রম কোচ পিটার বাটলারের দৃষ্টি এড়ায়নি।
বাটলার জানান, উন্নতির জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই এবং আনিকার এই মানসিকতা পুরো দলের জন্যই ইতিবাচক উদাহরণ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ দলে এখন একাধিক ম্যাচজয়ী খেলোয়াড় রয়েছে এবং আনিকা তাদের আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
উইঙ্গার হিসেবে জাতীয় দলে অভিষেক হলেও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন আনিকা। নতুন ভূমিকায় প্রথম ম্যাচেই গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। শারীরিকভাবে শক্তিশালী এই ফুটবলার এখন দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
ঋতুপর্ণা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও উমেহ্লা মারমার মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে আনিকার উপস্থিতি বাংলাদেশের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে স্বাগতিক ভারতও শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামবে, তবে তারা পাচ্ছে না তাদের অন্যতম তারকা ফরোয়ার্ড মনীষা কল্যাণকে। ক্লাব কমিটমেন্টের কারণে তিনি এই ম্যাচে থাকছেন না, যা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ।
তবে ভারতীয় দলে থাকা সৌম্য গুগুলাথ, কাভিয়া পাক্কিরিসামি ও গ্রাস দাংমেইরা ম্যাচে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোচ পিটার বাটলার বলেন, ভারতের আক্রমণভাগ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, বাংলাদেশেরও পাল্টা আক্রমণের ক্ষমতা আছে। সঠিক সুযোগ কাজে লাগানো এবং রক্ষণভাগকে সংগঠিত রাখাই হবে ম্যাচের মূল চাবিকাঠি।