
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড় এলাকায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) একটি গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র।
হঠাৎ করে গোডাউন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয়রা। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ভবন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি দ্রুত আশপাশে জানাজানি হলে স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গোডাউনের ভেতরে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। কয়েক হাজার লিটার সয়াবিন তেলের বোতল আগুনে গলে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি স্তূপ করে রাখা শত শত বস্তা পণ্য পুড়ে কালো কয়লায় পরিণত হয়েছে। আগুনের তাপে গোডাউনের দেয়াল ও দরজাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ অগ্নিকাণ্ডে কয়েক লাখ টাকার সরকারি মালামাল পুড়ে গেছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গোডাউনের ভেতরে ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং দাহ্য পদার্থ বেশি থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে আগুনের খবর পেয়ে টিসিবির পণ্য নিতে আসা নিম্নআয়ের মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে যান। স্থানীয় এক ব্যক্তি মতিন বলেন, “গতকাল মাইকিং করা হয়েছিল আজ টিসিবির পণ্য দেওয়া হবে। সেই আশায় এসে দেখি সব পুড়ে গেছে। খালি হাতেই ফিরে যেতে হচ্ছে।” এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নওহাটা কলেজ মোড় এলাকার মতো জনবহুল স্থানে এমন অগ্নিকাণ্ড বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের হস্তক্ষেপে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
এদিকে পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। টিসিবির ডিলারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে।
এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে গোডাউনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা বলছে।