
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী-কে আরও দুইটি হত্যা মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, কেন তাকে নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহের-এর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এ নিয়ে মোট ১২টি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন আইভী।
আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
তবে আইনজীবীদের মতে, হাইকোর্ট জামিন দিলেও এখনই আইভীর মুক্তি সম্ভব নয়। কারণ পূর্বে দেওয়া ১০টি মামলার জামিন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেছে। সেই স্থগিতাদেশ এখনও কার্যকর রয়েছে। আগামী রবিবার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আইভীর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জানান, যদি আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে এবং নতুন দুই মামলার ক্ষেত্রেও জামিন স্থগিত না থাকে, তবে তার মুক্তিতে আইনগত বাধা থাকবে না।
আইভীর পক্ষের আরেক আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান দাবি করেন, আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বেশ কিছু মামলার এফআইআর-এ তার নাম সরাসরি উল্লেখ নেই। তার মতে, এটি মামলার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, আইভীর জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে এবং হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন ধাপে আইভীর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা হয়। গত বছরের ৯ নভেম্বর প্রথম দফায় পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দেয়, যা পরে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করে। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং ধাপে ধাপে জামিন ও স্থগিতাদেশের আইনি জটিলতা তৈরি হয়।
সম্প্রতি হাইকোর্ট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশে বলে যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ক ধারা কঠোরভাবে অনুসরণ না করে আইভীকে যেন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো না হয় এবং তাকে হয়রানি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সেলিনা হায়াৎ আইভী দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি একাধিকবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার বিচারিক ও আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তার ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান পুরোপুরি নির্ভর করছে আপিল বিভাগের আসন্ন সিদ্ধান্তের ওপর।