
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সীমান্তবর্তী নাফ নদ এলাকায় আবারও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাছ ধরতে গিয়ে সাতজন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর প্রায় ২টার দিকে টেকনাফের সাবরাং নয়াপাড়া ও শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদে মাছ ধরে ফিরছিলেন জেলেরা। এ সময় হঠাৎ করে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের নৌকাসহ আটক করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
আটক জেলেরা হলেন—সাবরাং নয়াপাড়া এলাকার আব্দুর রহমান, আবদুল মতলব, গুরা মিয়া, মো. হাসান এবং শাহপরীরদ্বীপ ডেইল পাড়ার আহমদ আলী, নুরুল আবসার ও আবদুর রহিম।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, জেলেরা ভোরে মাছ ধরতে নাফ নদে গিয়েছিলেন। দুপুরে ফেরার সময় হঠাৎ করে তাদের নৌকাসহ ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকার মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আটক জেলে আহমদ আলীর স্ত্রী মুন্নি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামীসহ কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হওয়ায় এখন তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
নৌকার মালিক আব্দুস শুক্কুর জানান, চারজন জেলে তার নৌকায় করে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তারা আটক হন। দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যাচাই শেষে জেলেদের ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ জানান, জেলেদের আটকের খবর পাওয়া গেছে। তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনতে কোস্ট গার্ড ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
নাফ নদ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী একটি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রায়ই জেলে আটক, নৌকাসহ অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে। ফলে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে সবসময়ই এক ধরনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যেতে হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, জীবিকার তাগিদে জেলেরা ঝুঁকি নিয়েই নদীতে নামেন। কিন্তু বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই দাবি করছেন, সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা দরকার।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটক জেলেদের অবস্থান বা তাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য নিশ্চিত হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
সব মিলিয়ে নাফ নদে জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা আবারও সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থানীয় জেলেদের জীবিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।